Type Here to Get Search Results !

যৌনপল্লিতে পাচার হয়ে এসেছিলেন, সেখানেই প্রেম, অবশেষে বিয়ে করে ঘর বাঁধলেন মহিষাদলের ঝুমা

যৌনপল্লিতে পাচার হয়ে এসেছিলেন, সেখানেই প্রেম, অবশেষে বিয়ে করে ঘর বাঁধলেন মহিষাদলের ঝুমা
 মহিষাদল বাজারের নিষিদ্ধ পল্লীর যৌনকর্মী ঝুমা ঘোষ! নারী পাচার চক্রের (Women Trafficking) ফাঁদে পড়ে অজান্তেই যৌনপল্লির কালো পাকে ফেঁসে গিয়েছিল বাপ-মা হারা নাবালিকা। কিন্তু অন্ধকার আছে বলেই না আলো আছে! ঝুমার অন্ধকার জীবনে আলোর রশ্মি হয়ে এল ছোট্টু দাস নামে এক যুবক! মহিষাদলের যৌনপল্লিতে খাবার সরবরাহ করতেন বাসুলিয়ার বাসিন্দা পেশায় হোটেল ব্যবসায়ী ছোট্টু! সেখানেই আলাপ ঝুমার সঙ্গে!

ঝুমা-ছোট্টুর আলাপ ধীরে ধীরে গড়ায় বন্ধুত্বে, সেখান থেকে ভাললাগা, ভালবাসা! মাত্র ৫ মাসেই একে অপরকে বড় ভালবেসে ফেলে ছোট্টু আর ঝুমা! শেষ পর্যন্ত স্থানীয় ক্লাবের সহযোগিতায় তাঁদের বিয়ে হল! সাতপাক ঘুরে নতুন জীবন, নতুন সংসার শুরু করলেন কপোত-কপোতি! অন্ধকার অলি-গলি থেকে মুক্তি পেয়ে সূচনা হল ঝুমার আলো-ঝলমলে দিনের!
২১ বছরের ঝুমার বাড়ি মুর্শিদাবাদের লালগোলা গ্রামে। বাবা তরুণ ঘোষ। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর অভাবে জেরবার হয়ে পড়েছিলেন ঝুমা, তাঁর দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে কিছু বন্ধুদের এক চক্র তাঁকে পাচার করে যৌনপল্লিতে। অন্যদিকে, মহিষাদলের বাসিন্দা সনাতন দাসের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। মেজো ছেলে ছোট্টু দাস, বয়স বছর ২৭! মহিষাদল বাজারেই ছোট্টুর একটি হোটেল রয়েছে! সেখান থেকেই রোজ খাবার যেত মহিষাদল বাজারের যৌনপল্লিতে! খাবার পৌঁছে দিতেন ছোট্টু-ই! তখনই দেখা হয় ঝুমার সঙ্গে! গত পাঁচ মাস ধরে তাঁদের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। তাঁরা বিষয়টি স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে জানায়। তারাই ছেলের পরিবার ও পতিতাপল্লীর মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন!

অবশেষে, সোমবার সন্ধ্যায় দুইহাত এক করার ব্যবস্থা করা হয়। পুরোহিত ডেকে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনেই বিয়ে হয় ঝুমা আর ছোট্টুর। মালাবদল, সিঁদুর দান ও উলুধ্বনি দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আসরে উপস্থিত ছিলেন ছেলের পরিবার, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.