দাম কমারও কোনও ইঙ্গিত দেখছেন না ব্যবসায়ীরা।
লাফিয়ে বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। এক লাফে ৯০০ টাকা পেরিয়েছে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামও। আর তার জেরেই মধ্যবিত্তের হেঁশেলে আগুন। আর সেই আগুনে আরও ঘি ঢেলেছে ভোজ্য তেলের দাম। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সরষের তেলের (Mustard Oil Price Hike) দাম কেজি প্রতি ২০০ টাকা ছুঁইছুঁই। প্যাকেটজাত তেলের দাম তো আগেই ২০০-র গণ্ডি পেরিয়েছিল। আপাতত সেই দাম কমারও কোনও ইঙ্গিত দেখছেন না ব্যবসায়ীরা।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সরষের তেলের ঝাঁজে চোখে জল মধ্যবিত্তের। কেজি প্রতি ১৬০-১৭০ টাকার আশপাশে ঘোরাফেরা করছে তেলের দাম। গত দু-তিন ধরে ফের বেড়েছে রান্নার তেলের দাম। কোথাও ১৭৫ টাকা, তো কোথাও ১৯০ টাকা। কোথাও আবার তেলের দাম দুশো টাকা ছুঁইছুঁই। শুধু কলকাতা নয়, একই পরিস্থিতি জেলাতেও।
তবে শুধুমাত্র বাংলা নয়, একই পরিস্থিতি গোটা দেশে। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গীন যে রাস্তায় সরষে তেলের প্যাকেট ভরতি ট্রাক লুঠ হচ্ছে। আগস্টের শেষের দিকে ৪০ লক্ষ টাকা মূল্যের সরষের তেলের বোতল ও প্যাকেট ভর্তি ট্রাক লুঠ হয় বিহারে। কবে কমবে দাম? কী বলছে সরকার? এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় খাদ্যসচিব সুধাংশু পাণ্ডে জানিয়েছেন, ডিসেম্বর থেকে দাম কমতে শুরু করতে পারে। অর্থাৎ, আরও চার মাস অপেক্ষা করে থাকতে হবে সামান্য স্বস্তির জন্য। তাঁর কথায়, ডিসেম্বর থেকে নতুন শস্য আসতে শুরু করবে বাজারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও সর্ষের তেলের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরষের তেলের বেশিরভাগটাই আমদানি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে সরষের তেলের দাম অনেকটা বেশি রয়েছে। এদিকে চাহিদা আর জোগানে ফারাক বিস্তর। এই সবের জেরেই বাজারে সরষের তেলের দাম আকাশছোঁয়া। এ প্রসঙ্গে পোস্তার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ আগরওয়াল বলেন, “তেলের দাম বেড়েছে অনেকটাই। আমাদের অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তেল। ফলে খোলা বাজারে বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে সরষের তেল।”