ছাত্রনেতা আনিস খানের (Anis Khan) মৃত্যুর ঘটনায় ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই লক্ষ্যে SIT গঠন করা হয়েছে রাজ্য পুলিসের তরফে। SIT তার কাজ শুরু করে দিয়েছে সোমবার রাত থেকেই।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দিলিপ ঘোষ বলেন, "মারা গেছে এখন সবার হয়ে গেছে। প্রশ্নও সেটা নয় কার। যে ইচ্ছা নিয়ে জাক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন লাশ চুরি করতেন, এখন তার হাত থেকে লাশ চুরি হয়ে গেল।" তিনি আরও বলনে,"প্রশ্নটা হচ্ছে একটা ছেলে মারা গিয়েছে সন্দেহজনক অবস্থায়। তার বাড়ির লোকের বক্তব্য আলাদা। পুলিস খোলসা করছে না। আমরা চাই তদন্ত হোক। আনিস বহু লোকের সঙ্গে বহু সময়ে আন্দোলনে সামিল হয়েছে।"
দিলিপ ঘোষ বলেন যে এটি রাজনৈতিক হয়তো হতে পারে। কিন্তু যেহেতু সে মুসলিম, তাই সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আমাদেরও ৫০ জনের বেশি কর্মী ভোটের পরে মারা গেছে। তখন কারোর মনে হয়নি সেটা অমানবিক ছিল। এখান SIT গঠন করা হয় বাস্তবকে চাপা দেওয়ার জন্য।"
সোমবার রাতে আমতা থানায় হাওড়ার এসপির সঙ্গে বৈঠকের পরে থানার কর্মী এবং অফিসারদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিটের সদস্যরা। শুক্রবার রাতে কারা ডিউটিতে ছিলেন? অথবা সেই রাতে কোনও দল থানা থেকে বেরিয়ে আনিসের বাড়ি গিয়েছিল কিনা সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাদের। এছাড়াও জিডি রেজিস্ট্রার খতিয়ে দেখেন তারা, খতিয়ে দেখা হয় সিসিটিভি ফুটেজও।
সোমবার SIT গঠনের অর্ডার বেরনোর পরেই SIT-র দুই জন সদস্য, মিরাজ খালিদ এবং ধ্রুবজ্যোতি দে, পৌঁছে যান থানায়। তাদের সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন অফিসার। পুলিস সুপার সৌম্য রায়ের সঙ্গে কথা বলার পরে রাত দুটো পর্যন্ত বাকিদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। শুক্রবার আমতা থানায় অফিসার ছাড়াও, সিভিক পুলিস সহ অন্যান্য কারা ডিউটিতে ছিলেন সেই বিষয়ে খোঁজখবর করেছেন তারা। এছাড়াও সোমবার ডিউটিতে থাকা অফিসারদেরকেও আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়াও আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আইসিকেও।
SIT-র তদন্তে মূলত দুটি ভাগ রয়েছে। ফলত সেই রাতে পুলিস কখন খবর পায় এবং কখন ঘটনাস্থলে পৌছায় সেই বিষয়েও তদন্ত করা হবে। সোমবার রাতে SIT-এর জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার দিনের ডিউটি অফিসারকে এই জিনিসগুলির সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।