Type Here to Get Search Results !

সবাইকে চমকে দিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ে সারলেন মদন মিত্র, রইল কনের আসল পরিচয়

সবাইকে চমকে দিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ে সারলেন মদন মিত্র, রইল কনের আসল পরিচয়

 পড়ন্ত মাঘের এক শনি-সন্ধ্যা। ঘড়ির কাঁটা তখন সন্ধ্যে সাড়ে ছ’টা ছুঁইছুই। দ্বিতীয়বারের মতন বিবাহ বন্ধনে বাঁধা পড়লেন মদন মিত্র। ৬৭ বছর বয়সে এসেও এহেন সিদ্ধান্তে তিনি প্রমাণ করলেন বয়স শরীরের বাড়ে, মনের নয়, বয়স শুধুই সংখ্যামাত্র।

গতকাল রাতে এই দ্বিতীয় বিয়ের খবর সংবাদমাধ্যমে জানানোর পর থেকেই তুমুল জল্পনার ঝড় ওঠে রাজ্যে। কাকে বিয়ে করতে চলেছেন বাংলার কালারফুল বয় তা জানতে একপ্রকার ঘুম উড়েছিল তাঁর অনুগামীদের। অবশেষে লাল টুকটুকে বেনারসিতে সেজে পান পাতায় মুখ ঢেকে সামনে এলেন কনেও। ছাতনা তলায় শুভদৃষ্টির পর মালাবদল। বিয়ে শেষে বাহুডোরে বাঁধাও পড়লেন নবদম্পতি।

কিন্তু কে এই ‘মদনমোহিনী’? আজ্ঞে না, তিনি আর কেউ নন, তিনি স্বয়ং মদন পত্নী অর্চনা মিত্র। দীর্ঘ ৪২ বছরের দাম্পত্য জীবন পেরিয়ে এসে আবারও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন তাঁরা। লাল টুকটুকে বেনারসি পরিহিতা নববধূর পাশে লাল পাঞ্জাবি এবং ঘিয়ে ধুতিতে মদন মিত্র যেন হার মানাচ্ছিলেন সে কোনো চিত্র তারকাকেই। সঙ্গে নিতবরের বেশে নাতি মহারূপকেও লাগছিল যেন কোনো তেপান্তরের পারের ছোট্ট রাজকুমারের মতই।

দাম্পত্যের একেবারে প্রথমের দিনগুলির স্মৃতিচারণও এদিন করতে দেখা যায় এদিন মদন মিত্রকে। প্রারম্ভিক দাম্পত্যের সেই মধুর স্মৃতিযাপন করে স্ত্রীর প্রশংসায় কার্যতই ফেটে পড়েন বাংলার কালারফুল বয়। একই সঙ্গে যুব সমাজকেও দাম্পত্য নিয়ে বেশ কিছু টিপসও দেন তিনি। বরাবর বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হয়েও যে ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রীর অতি কাছেই তাঁর অবস্থান সেকথা স্পষ্ট করে মদন মিত্র বলেন, ‘যারা ইয়ংস্টারস, আমার সেলফি গ্রুপ, তাদের বলি, বিয়ের চল্লিশ বছর বাদেও যেন বলতে পারো ডোন্ট নো মাই নেম? আই অ্যাম এম এম-এম এম! এম এম ইস দা কালারফুল বয়। কালারফুল কিন্তু পাওয়ার ফুল নয়।’ এরপরই স্ত্রীকে উদ্দ্যেশ করে তাঁর সেই বিখ্যাত ‘ওহ লাভলি’ সঙ্গে সঙ্গেই হাততালিতে ফেটে পড়ে গোটা অনুষ্ঠান।

বিয়ের পর কী জানাচ্ছেন মদন পত্নী? স্বামীকে জড়িয়েই অর্চনা দেবী বলেন, ‘আজ সত্যিই দারুণ একটা দিন। এত গুলো বছর পর আবার এভাবে, খুবই ভালো লাগছে। ও এত ভালো ভালো কাজ করে, আমি টিভিতে, খবরে দেখি। আমি চাই আরও বড় হোক ও, আরও ভালো কাজ করুক’।

সামনেই ভ্যালেন্টাইন্স ডে, তার আগেই এহেন মিষ্টি প্রেমমাখা অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকতে পেরে কার্যতই খুশি মদন প্রেমীরাও। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এদিন বয়স্ক দম্পতিদের আবারও বিয়ে দিয়ে প্রেম দিবস উদযাপনের পরিকল্পনায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ডিজাইনার কেয়া শেঠ। সেই অনুষ্ঠানে আবারও গাঁটছড়া বাঁধেন দাম্পত্যের পথে ৫৬-৪২-৪০ প্রভৃতি বছর হেঁটে আসা দম্পতিরা। সেই অনুষ্ঠানেই নিজের স্ত্রী অচর্ণা দেবীর সঙ্গেই দ্বিতীয় বার দিল্লির লাড্ডু খেলেন বাংলার কালারফুল বয় তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। খুব শীঘ্রই যে আসতে চলেছে তাঁর বায়োপিক, এদিন একথাও জানাতে ভোলেননি তিনি।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.