দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে পোক্ত করতে ভারতীয় প্রযুক্তির (Indigenous Weapons) উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে মোদী সরকার (Modi Government)। বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানির বদলে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শীঘ্রই এই বিষয়ে জারি করা হবে নতুন নির্দেশিকা। শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিনি জানান, বিদেশ থেকে অস্ত্র ও সামরিক পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শীঘ্রই তৃতীয় একটি তালিকা প্রকাশ করা হবে। এর আগে এইরকম দু'টি তালিকা প্রকাশ করেছিল নয়াদিল্লি। তার মাধ্যমে ২০৯ ধরনের সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তৃতীয় তালিকায় আরও বেশ কিছু পণ্য আমদানির উপর একইভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। মোদীর যুক্তি, যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রু পক্ষকে চমকে দিতে দেশীয় প্রযুক্তির থেকে ভালো আর কোনও উপায় নেই।
মোদী জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে সাইবার সুরক্ষাকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহারকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শুক্রবার 'আত্মনির্ভর ইন ডিভেন্স- কল টু অ্যাকশন' শীর্ষক একটি সম্মেলনে ভাষণ দেন মোদী। সেখানে তিনি বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০২২-২৩ আর্থিক বছরের বাজেটেই এর নীল নকশা তৈরির কাজ সেরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যার প্রধান লক্ষ্যই হল, পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে উন্নতিমানের সামরিক প্রযুক্তি গড়ে তোলা এবং তার সাহায্যে প্রতিরক্ষার প্রয়োজনীয় অস্ত্র-শস্ত্র তৈরি করা।
মোদী জানিয়েছেন, এবারের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে মোট যত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, তার প্রায় ৭০ শতাংশই দেশীয় প্রযুক্তিতে অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে। যার মধ্যে ২৫ শতাংশ দেওয়া হবে সদ্য গড়ে ওঠা সংস্থাগুলিকে।
কিন্তু, প্রশ্ন হল, শুধুই কি আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত নির্মাণে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চাইছে ভারত? এক কথায় এর উত্তর হল, না। মোদী এই প্রসঙ্গে বলেন, "১০টি দেশ যদি একই প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করে, তাহলে তার মধ্যে কোনও স্বাতন্ত্র থাকে না। কিন্তু, কোনও দেশ সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তি অস্ত্র তৈরি করলে তা বাকিদের থেকে একেবারেই আলাদা হবে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রততিপক্ষকে চমকে দেওয়া যাবে।" মোদীর বার্তা, শত্রু যদি অস্ত্র চিনতেই না পারে, তাহলে প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারবে না। আর এভাবেই ভারত শত্রুপক্ষের থেকে আগেভাগেই কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকবে।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই ভারতীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে অস্ত্রশস্ত্র তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তার জন্য এখনও পর্যন্ত খরচ করা হয়েছে ৫৪ হাজার কোটি টাকা। আরও ৪৫ লাখ কোটি টাকার কাজ শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শীঘ্রই বিদেশ থেকে অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি আমদানি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ সম্পর্কিত তৃতীয় তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মোদী। সামরিক ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বাড়াতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।