পাগড়িতে আপত্তি নেই, চুড়িতেও আপত্তি নেই, তাহলে শুধুমাত্র মুসলিম মেয়েরা হিজাব পরলেই (Karnataka Hijab Controversy) এত সমস্যা কেন? কেন শুধুমাত্র তাঁদেরই ধর্মীয় রীতি মেনে পোশাক পরতে বাধা দেওয়া হচ্ছ? হিজাব বিতর্কে রুজু হওয়া একটি মামলায় এই প্রশ্নই তুললেন মামলাকারীদের আইনজীবীরা। সংশ্লিষ্ট মামলাটির শুনানি চলছে কর্নাটক হাইকার্টে। মামলাকারীর অভিযোগ, সম্প্রতি কর্নাটকে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরা নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, তা আদতে সরকারের 'বৈরিতা এবং বৈষম্যমূলক' আচরণেরই একটি প্রমাণ। ভারতীয় সমাজে ধর্মীয় কারণেই বহু পুরুষ পাগড়ি পরেন, মহিলাদের হাতে নানা রঙের চুড়ি থাকে, তা নিয়ে কখনও সরকার আপত্তি তোলে না। তাছাড়া, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নির্দিষ্ট কোনও পোশাক বা ইউনিফর্ম থাকে না। তাই সেখানে কেউ হিজাব পরে গেলে, সেটা মোটেও অনিয়ম নয়। তা সত্ত্বেও বেছে বেছে শুধুমাত্র মুসলিম ছাত্রীদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।
কর্নাটকের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল রবি ভার্মা কুমার (Ravi Varma Kumar) মামলা চলাকালীন আদালতকে বলেন, যেহেতু কলেজে রাজ্য় সরকারের নির্দিষ্ট কোনও পোশাক বা ইউনিফর্ম পরার ব্যবস্থা নেই, তাই, মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরে ক্লাস করতে বাধা দেওয়ার ঘটনা আদতে 'বৈষম্যমূলক' আচরণেরই প্রমাণ এবং তা সংবিধানের ১৫ নম্বর ধারার পরিপন্থী। শিক্ষাকেন্দ্রে এই ধরনের আচরণ কখনই কাম্য নয়। রবি ভার্মার কথায়, "হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টানদের তাঁদের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতীক রয়েছে। বহুত্তবাদ এবং বৈচিত্র আমাদের সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাহলে শুধুমাত্র হিজাবকেই নিশানা করা হচ্ছে কেন? আমরা কি কখনও শিখ পুরুষদের পাগড়ি পরা থেকে বিরত রাখার কথা ভাবতে পারি? মেয়েরা চুড়ি পরেন। তাতেও কোনও সমস্যা নেই। তাহলে কেবলমাত্র মুসলিম মেয়েদের নিশানা করা হচ্ছে?"
রবির যুক্তি, সংবিধানের ১৫ নম্বর ধারা অনুসারে ভারতের কোনও নাগরিককেই তাঁর ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ এবং জন্মস্থানের ভিত্তিতে বাকিদের থেকে আলাদা বিচার করা যায় না। যদি মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরে ক্লাস করতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে যে ছাত্রীরা ওড়না, চুড়ি, টিপ বা ক্রস গলায় ঝুলিয়ে ক্লাসে আসেন, তাঁদেরও বাধা দেওয়া উচিত। রবির বক্তব্য, "সামরিকবাহিনীতেও পুরুষদের পাগড়ি পরায় কোনও বাধা দেওয়া হয় না।" তাহলে ক্লাসরুমে মুসলিম ছাত্রীদের সঙ্গে এমন বৈষম্যমূলক আচরণ কেন করা হবে!
সংশ্লিষ্ট মামলায় উডুপি কলেজের পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে সওয়াল করছেন আইনজীবী ইউসুফ মুছালা। তাঁর গলাতেও প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেলের সুর শোনা গিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার যদি এমন কোনও নির্দেশিকা জারি করে, যেখানে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরে ক্লাস করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাবে, তাহলে সেই নির্দেশিকা আদতে বেআইনি এবং তা 'প্রকাশ্য স্বেচ্ছাচারিতা'। তিনি আদালতকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছেন।