একসময় সন্তান, স্বামী নিয়ে সুখের সংসার ছিল। অভাব তাঁর ত্রিসীমানায় আসতে পারেনি। কিন্তু, মুহূর্তে বদলেছে জীবন। বর্ধিষ্ণু পরিবারের কন্যাকে বেঁচে থাকার জন্য ভিক্ষা করতে হচ্ছে।
এ যেন রূপকথার রাজকন্যার গল্প! এক লহমায় 'রাজকন্যা'থেকে হয়ে গেলেন পথের ভিখারী! যে 'রাজকন্যা'ছোট থেকে কখনও অভাব কী জানতেন না। বিয়ের পরেও কোনও অভাব-কষ্ট স্পর্শ করেনি তাঁকে। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন বিধির বিধানে সব ওলট-পালট হয়ে গেল। বৃদ্ধ বয়সে এসে, সব হারিয়ে, অপমান সহ্য করে, পেটের জ্বালা মেটাতে দুর্গাপুরের এই রাজকন্যা, ঝর্ণা সেন আজ ভিক্ষা চাইছেন মন্দিরের উঠোনে দাঁড়িয়ে। যেন সামাজিক অবক্ষয়ের এক মূর্ত প্রতীক তিনি।
একটা সময়ে সবকিছুই ছিল এই বৃদ্ধার। একমাত্র ছেলে আর স্বামীকে নিয়ে সুখেই ছিলেন ঝর্ণা সেন। মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ ছেলে কাজ করছিলেন দুর্গাপুরেরই একটি বেসরকারি কারখানায়। অভাব শব্দটার সঙ্গে পরিচিতি ছিলেন না। কে জানত বিধির লিখন! জীবনের অঙ্কের সব হিসেব-নিকেশ যেন এক লহমায় ওলট-পালট হয়ে গেল। কারখানায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঝর্ণা সেনের একমাত্র সন্তানের গোটা শরীর আগুনে ঝলসে যায়। স্বামীর সঞ্চিত টাকার সবটাই চলে যায় ছেলের চিকিৎসায়। এমনকি চিকিৎসার খরচ জোগাতে বাড়িও বন্দক রাখেন একজনের কাছে। কিন্তু তারপরেও ছেলেকে বাঁচাতে পারেননি। এই অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে যার কাছে বাড়ি বন্দক রেখেছিলেন বৃদ্ধা, সে কৌশলে তাঁর মাথা গোঁজার ছাদটা কেড়ে নেয়। একসঙ্গে ছেলে ও ঠাঁই হারানোর শোকে ঝর্ণাদেবীর স্বামী মারা যান। এরপরই একেবারে রাস্তায় এসে বসেন ঝর্ণাদেবী।
ঘটনাটি জানতে পেরে দুর্গাপুর নগর নিগমের দুই নম্বর বোরো চেয়ারম্যান রমাপ্রসাদ হালদার অবশ্য এই বৃদ্ধার আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু তারপর? জবাব মেলেনি বোরো চেয়ারম্যানের। কোন পথে এগোবে বৃদ্ধার ভবিষ্যৎ? উত্তর জানা নেই বৃদ্ধারও। শুধু জানেন, একদিন না বেরোলে জুটবে না খাবার।