এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অফিস থেকে বেরিয়ে কংগ্রেসকে একহাত নিয়েছেন সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ভোটপ্রচারের মঞ্চ থেকেও কংগ্রেস-বিজেপির জোট নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দলীয় মুখপত্রে কংগ্রেসকে ‘পচাডোবা’ বলেও কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। এমনকী, জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের শক্তিক্ষয় করে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন একাধিক নেতা-কর্মী। এমন আবহে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেক।
বুধবার তৃণমূলের সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বলেন, “কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি আমাদের লড়াই নেই। কিন্তু কেউ যদি বাড়িতে বসে টুইটার-ফেসবুকের রাজনীতি করে তাহলে কী করব। তৃণমূল মাঠে নেমে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করবে। ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে দমিয়ে রাখা যাবে না।” তাঁর এহেন মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বঙ্গভোটে বিজেপিকে ধরাশায়ীর করার পর থেকেই সর্বভারতীয় স্তরের রাজনীতিতে গুরুত্ব বাড়াতে ঝাঁপিয়েছ তৃণমূল। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে বিজেপিবিরোধী জোট গড়ার ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেই উদ্দেশে দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক সারেন তিনি। সেই সময় মনে করা হচ্ছিল, বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী জোট গড়ছে তৃণমূল। সেই জোটে থাকবে কংগ্রেসও। কিন্তু হঠাৎ ছবিটা বদলে যায়।
বাংলার মসনদে বসার পর থেকে চব্বিশের লোকসভাকে পাখির চোখ করেছে তৃণমূল। জাতীয় স্তরে বিস্তৃতি ঘটাতে ত্রিপুরাকেও হাতিয়ার করা হয়েছে। তবে বিজেপিকে মাটি ধরাতে কংগ্রেসকে পাশে প্রয়োজন, তা তৃণমূলের কাছে যথেষ্ট পরিষ্কার। আর তাই নিজেদের মুখপত্রে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের বার্তা দিয়েছিল তারা। গত ১৪ আগস্ট জাগো বাংলার সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিল, তৃতীয় বিকল্প নয়, কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে গদিচ্যুত করতে জোট বিকল্পই কার্যকর করতে হবে। তবে হুটহাট কোনও সিদ্ধান্ত নয়, তার জন্য প্রয়োজন সঠিক ফর্মুলার। এর মাঝেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে শুরু করে তৃণমূল নেতৃত্ব। দিল্লির রাজপথে দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেছিলেন, “ইডি-সিবিআইয়ের ভয় কংগ্রেস পায়। তৃণমূলকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না।” এর মাঝেই ফের কংগ্রেসকে নিশানা করলেন অভিষেক।