যত সময় যাচ্ছে ততই গোটা বিশ্বের কাছে পাকিস্তানের (Pakistan) ভাবমূর্তি মলিন থেকে মলিনতর হয়ে উঠছে। এমনিতেই দীর্ঘ দিন ধরে ‘ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স’-এর (FATF) ধূসর তালিকায় রয়েই গিয়েছে ইমরানের (Imran Khan) দেশ। এবার ইসলামাবাদর বিরুদ্ধে তোপ দেগে মার্কিন বিশেষজ্ঞ দাবি করলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করুক বিশ্ব। কার্যত পাকিস্তানকে আরও কোণঠাসা করার দাবি করলেন তিনি।
আর্থার হেরম্যান নামের ওই বিশেষজ্ঞ ‘দ্য হিল’ পত্রিকায় এই দাবি জানিয়েছেন। ২০০২ সাল থেকে পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা করে চলেছে আমেরিকা (America)। যার একটা সিংহভাগ অর্থই দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসের মোকাবিলা করার জন্য। কিন্তু সেই অর্থে কার্যত উলটো কাজই করছে ইসলামাবাদ, এমনই অভিযোগ হেরম্যানের। সব মিলিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
ঠিক কী লিখেছেন তিনি? তাঁর কথায়, ”আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরে এবার সময় এসেছে পাকিস্তানের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পুনর্মূল্যায়ণ করার। অতীত ও বর্তমানের সমস্ত মার্কিন নীতি নির্ধারকদের এবার ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন এমন একটা দেশকে আমরা সাহায্য করে চলেছি যারা আমাদের শত্রুদের সঙ্গে দিব্যি হাত মিলিয়েছে! বিশ্বের নিকৃষ্টতম দেশকে আমরা প্রভূত পরিমাণে পারমাণবিক প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করে চলেছি। ওরা বারবার আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ককে প্রতারণা করেছে।”
তিনি জানিয়েছেন, ২০০২ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানকে ৩৩ বিলিয়ন ডলার সাহায্য করেছে আমেরিকা। এর মধ্যে ১৪ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল সন্ত্রাস দমনের জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসকে মদত দেওয়ার। কার্যত ‘সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর’ হয়ে গিয়েছে পাকিস্তান। আর সেই কারণেই ২০১৮ সালের জুন মাসে ধূসর তালিকাভুক্ত করা হয় ইমরান খানের দেশকে। সেই সঙ্গে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় ২০১৯ সালের মধ্যে সন্ত্রাসে আর্থিক মদত দেওয়া ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত হতে অ্যাকশন প্ল্যানগুলি মেনে চলতে।
কিন্তু আজও তারা সেই অভিযোগ থেকে মুক্ত হতে পারেনি। বরং যত সময় গিয়েছে, ততই পাকিস্তানের ভাবমূর্তি আরও খারাপ হয়েছে। সম্প্রতি আফগানিস্তানে তালিবান জঙ্গিদের সরকার গঠনেও পাকিস্তানের বিশেষ ভূমিকা থাকার কথা শোনা গিয়েছে।