বাংলাদেশের প্রথম সারির নায়িকা মাহিয়া মাহিকে (Mahiya Mahi) ফোনে অশ্লীল মন্তব্য, ধর্ষণের হুমকি দিয়ে বিপাকে বাংলাদেশের তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। তার হুমকির সেই অডিও প্রকাশ্যে আসার পরে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে ডা. মুরাদ হাসানকে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই পদত্যাগ করেন তিনি। ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে তথ্যপ্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন তিনি। মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন। এরপরই বৃহস্পতিবার রাতে দেশ ছাড়েন তিনি।
এইদিকে এই ঘটনার পরে আরও বিপাকে পড়েছেন মুরাদ হাসান। দিন কয়েক আগেই BNPর নেত্রী খালেদা জিয়ার নাতনিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন মুরাদ হাসান (Murad Hasan)। তারপরেই তাঁর একটি অডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে। মাহির (Mahiya Mahi) সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়ে মুরাদ হাসান তাঁকে অশ্লীল ভাষায় হুমকি দেন। মাহি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে না চাওয়ায় তাঁকে ধর্ষণের হুমকিও দিয়েছেন। সেই সময় মাহিয়া মাহির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা মামনুন হাসান ইমন। তাঁর ফোনেই ফোন করেছিলেন মন্ত্রী। এই নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা বাংলাদেশ। বিপাকে পড়ে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ সরকার। চাপের মুখেই মন্ত্রীত্ব ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তবে এখনও এমপি পদে রয়েছেন।
সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই ফেসবুকে লাইভে এসে মাহিয়া মাহি বলেন, এই অডিও ক্লিপটি দুবছর আগের। তখনও তিনি বিব্রত হয়েছিলেন, এখনও তিনি ফের বিব্রতবোধ করছেন। এই ঘটার সময় মক্কায় ছিলেন মাহি। ফিরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করারও আর্জি জানিয়েছিলেন নায়িকা। প্রসঙ্গত মাহিয়া মাহি ঢালিউডের হায়েস্ট পেড অভিনেতা। যে সময়ে এই ঘটনা ঘটে তখনও তিনি বাংলাদেশের প্রথম সারির নায়িকাই ছিলেন।
বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, মুরাদ হাসান রাত সাড়ে ন'টার দিকে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে যান। ঢাকা থেকে দুবাই হয়ে তিনি কানাডার যাবার জন্য একটি ফ্লাইট ধরেছেন। ফ্লাইটটি ছেড়ে যাবার নির্ধারিত সময় রাত সাড়ে এগারোটায় থাকলেও প্রায় দুই ঘণ্টা লেট হয়। বিপাকে পড়েই কানাডায় তাঁর পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মুরাদ হাসান। মঙ্গলবার পদত্যাগের পরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, যদি তার কোন ভুল হয় তাহলে যেন ক্ষমা করা হয়। মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে শাহবাগ থানায়। ঢাকা পুলিস কমিশনারের মারফত তা পাঠানো হয়েছে সাইবার অপরাধ বিভাগে। প্রশ্ন উঠেছে এরই মাঝে কীভাবে দেশ ছাড়লেন বাংলাদেশের দুবারের নির্বাচিত এমপি মুরাদ হাসান?
মাহিয়াকাণ্ডে ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দা পুলিস। ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অল রশিদ জানান, মুরাদ হাসান ফোন করেছিলেন ইমনকে। তাই প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মাহিয়া মাহি দেশে ফিরলে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অন্যদিকে ইমন জানান যে ঘটনাটি ঘটার সময় তিনি বুঝতে পারেননি। তিনি ভেবেছিলেন মুরাদ হাসান মজা করছেন। এহেন পরিস্থিতিতে দানা বাঁধছে একটা রহস্য। ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ না করে কেন ডাকা হল না মুরাদ হাসানকে? কীভাবেই বা দেশ ছাড়ার অনুপতি পেলেন তিনি?