বিরাটকে অধিনায়ক মানতে রাজি ছিলেন না বেশ কিছু সিনিয়র তারকা বলছে সূত্র
পাকিস্তানের শোয়েব আখতার অনেকদিন আগেই বলেছিলেন ভারতীয় ড্রেসিংরুমে দুটো শিবির হয়ে গিয়েছে। একটা কোহলির দিকে ( Virat Kohli remove from ODI captaincy), অন্যটা বিপক্ষে। খুব একটা ভুল বলেননি তিনি। ভারতীয় বোর্ডের ( BCCI) বর্তমান হালচাল সেরকমই কিছু ইঙ্গিত করছে। ঈর্ষণীয় পরিসংখ্যান থাকা সত্ত্বেও, তাই সরে যেতে হল বিরাট কোহলিকে।
ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বোর্ডকে। বিরাট কোহলিকে এত তাড়াতাড়ি সরতে হল কেন? বোর্ড কর্তাদের পছন্দের তালিকা থেকে তিনি বাদ পড়লেন কেন? এর পিছনে মী রয়েছে ভারতীয় দলের সাজঘরের ( dressing room lobby) পছন্দ-অপছন্দ? ঠিক এক বছর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে অ্যাডিলেডে প্রথম টেস্টে হারতে হয়েছিল ভারতকে। পিতৃত্বকালীন ছুটি ( paternal leave during Australia series)নিয়ে তার পর দেশে ফিরে এসেছিলেন কোহলি।
বাকি তিনটি টেস্টে অজিঙ্ক রহাণে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে সিরিজ জিতয়েছিলেন। শুধু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জেতাই নয়, সেই টেস্ট সিরিজ জয়ের পিছনে আরও বড় তাৎপর্য ছিল। সুনীল গাভাসকার, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কপিল দেব, মহেন্দ্র সিং ধোনি - দেশের হয়ে ম্যাচ খেলার সময় এরা কেউ পিতৃত্বকালীন ছুটি নেননি। মুখে না বললেও অধিনায়ক বিরাট কোহলির বিপক্ষে গিয়েছিল এমন সিদ্ধান্ত।
রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ( Ravichandran Ashwin) মতো সিনিয়র থেকে শুরু করে ওয়াশিংটন সুন্দরের মতো জুনিয়ররা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন— সাজঘরে কোহলি না থাকার একটা ‘ইতিবাচক’ প্রভাব পড়েছে। বুঝতে অসুবিধা হয়নি, দলের সকলেই নেতা হিসেবে বিরাটকে চাইছেন না। ভারতীয় ক্রিকেট মহলের একাংশের দাবি, ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে বোর্ডকে ঘুরিয়েফিরিয়ে এই বার্তাই বার বার দেওয়া হয়েছে যে, নতুন কে দায়িত্ব নেবেন, সেটা পরে ঠিক করা যাবে।
আপাতত কোহলিকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর রাস্তা পরিষ্কার করা হোক। সম্ভবত তারই ফল টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ( T20 captain) থেকে কোহলীর নিজে সরে যাওয়া এবং এক দিনের দলের অধিনায়কত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া। তবে এই তত্ত্বের বা খবরেরও কোনও আনুষ্ঠানিক সমর্থন মেলেনি। কিন্তু যা রটে, তার কিছু তো বটে!
আগামী বছরের শেষ দিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ সালে এক দিনের ক্রিকেটের বিশ্বকাপ (2023 ODI World Cup)। ভারতীয় ক্রিকেটের হালচাল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একাংশ মনে করছে, স্বাভাবিক ভাবেই বোর্ড চাইছে, দুই বিশ্বকাপের আগে দলের অন্দরে যাবতীয় চোরাস্রোত যেন বন্ধ হয়ে যায়। তাই এখন থেকেই কড়া পদক্ষেপ নিয়ে রাখলেন সৌরভ-জয়রা। অনেকে নাকি বোর্ডের কাছে বিরাট কোহলির ড্রেসিংরুমে খারাপ ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন অতীতে।
এমনকি কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকার শুধু মুখে নাম না নিয়ে, ইংল্যান্ড সফরে অশ্বিনকে বসিয়ে রাখার জন্য দায়ী করেছিলেন কোহলিকে। তাই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ আসছিল। তাছাড়া রোহিত যোগ্য নেতা। সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন বারবার। বোর্ডের এমন সিদ্ধান্ত তাই সহজেই অনুমেয়।