তালিবানের (Taliban) দখলে চলে যাওয়া আফগানিস্তানে চরমে অর্থনৈতিক সংকট। দ্রুত ফুরিয়ে যেতে বসেছে খাদ্য ও অন্যান্য জীবনদায়ী রসদ। এহেন সময়ে ‘মানবিকতার খাতিরে’ আফগানিস্তানকে ৬৪ মিলিয়ন ডলার সাহায্য ঘোষণা করেছে আমেরিকা।
যুদ্ধজর্জর আফগানিস্তানের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। এরপরেই সোমবার গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করে আমেরিকা। আফগানিস্তানের (Afghanistan) মানুষকে আর্থিক সুবিধা দিতে এই সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। আফগান জনতার জন্য ৬৪ মিলিয়ন ডলার সাহায্য ঘোষণা করেছে বাইডেন প্রশাসন। আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম TOLO News সূত্রে খবর, মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থম্পসন এই অর্থনৈতিক সাহায্যকে মানবিক সাহায্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি রাষ্ট্রসংঘে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি গুরুতর। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকা মানবিক মূল্যবোধের কথা মাথায় রেখে সহায়তার জন্য ৬৪ মিলিয়ন ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রতি দিয়েছে।
আগস্টের ১৫ তারিখ কাবুল দখল করে তালিবান। আশরফ ঘানি সরকারের পতনের একপক্ষ কাল পরেই কাবুল থেকে উড়ে জায় মার্কিন ফৌজের শেষ বিমান। কিন্তু দেশহ দখল করলেও তা শাসন করা নিয়ে অথৈ জলে তালিবরা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গড়লেও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে তালিবান। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মঞ্চের কাছে আর্থিক মদত চেয়েছে তারা। মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী আফগান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি আন্তর্জাতিক মঞ্চের কাছে আবার ত্রাণ চালু করার আবেদন জানিয়েছে। কবুলয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সে বলে, “আফগানিস্তান যুদ্ধবিধ্বস্ত। তাই দেশ পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের জন্য ত্রাণের প্রয়োজন।”
উল্লেখ্য, তালিবানের শাসনে ঘোর অনিশ্চিয়তার মুখে পড়তে হয়েছে আফগান নাগরিকদের। আগামী দিনে দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়বে কিনা সেই আশঙ্কা তালিবানের প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই ছিল। যত সময় এগিয়েছে ততই কঠিন হয়েছে পরিস্থিতি। রাষ্ট্রসংঘও দেশটিতে চরম খাদ্য সংকটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক মহল কীভাবে আফগানদারে পাশে দাঁড়াতে পদক্ষেপ করে।