রাজ্য জুড়ে শিশুদের জ্বরে বাড়ছে উদ্বেগ। উত্তরবঙ্গে যেদিন ৫ সদস্যের চিকিৎসক দল পাঠাল স্বাস্থ্য দফতর, সেদিন গাইডলাইন প্রকাশ করল বিশেষজ্ঞ কমিটি। স্রেফ হাসপাতালেই নয়, বাড়িতে শিশুদের কীভাবে যত্ন নিতে হবে, তাও বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হল এই গাইডলাইনে।
জ্বরে কাহিল শিশুরা। অসুস্থতা এতটাই যে, হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। কিন্তু তাতে আর শেষরক্ষা হচ্ছে কই! শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে দ্রুত। এদিন মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মারা গিয়েছে আরও ২ শিশু। জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং শুকনো কাশির সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিল তারা। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী অবশ্য জানিয়েছেন, ল্যাবোটরিতে নমুনা পরীক্ষা নিশ্চিত করেছে এই সময়ে এই ধরনের জ্বর হয়। এর মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও আরএস ভাইরাস-ও রয়েছে। এছাড়া যোগ হয়েছে ডেঙ্গি ও অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাও। আর মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'জ্বরে কারও মৃত্যু হয়নি। তদন্ত করে দেখেছি মৃত শিশুদের অন্য অসুখ ছিল।'
শিশুদের জ্বরের কারণ অনুসন্ধানে ৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্যভবন। বুধবার বৈঠকে বসেছিলেন কমিটির সদস্যরা। কীভাবে চিকিৎসা হবে শিশুদের? কখন হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে? কখনইবা ছাড়া হবে? সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এবার হাসপাতাল চিকিৎসা, এমনকী বাড়িতেও শিশুদের কীভাবে যত্ন নিতে হবে, সেই সংক্রান্ত গাইডলাইন তৈরি করে দিল বিশেষজ্ঞ কমিটি।
উপসর্গ
--------
৩ বা তার বেশি দিন ধরে জ্বর
কাশি, সর্দি, গলা ব্যথা, ডায়ারিয়া, বমি,
শ্বাসকষ্ট কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বৃদ্ধি
জন্মের সময় কম ওজন
বিপদ সংকেত
------
অক্সিজেনের মাত্রা ৯২ এর নীচে
৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত জ্বর, শ্বাসকষ্ট
খাওয়া-দাওয়াতে অনীহা
দিনে ৫ বারের কম মূত্রত্যাগ
হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসা
৬ ঘণ্টা অন্তর শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তচাপ ও জ্বর পরীক্ষা
উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা, যেমন জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল
প্রয়োজনে স্যালাইন দেওয়া, শরীরে পর্যাপ্ত জলের জোগান
অক্সিজেনের মাত্রা ৯২ থেকে ৯৬-র মধ্যে রাখা
নির্দিষ্ট কিছু উপসর্গ থাকলে ভাইরাল প্যানেল টেস্ট